শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৩১ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক ইয়ং জেন ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস তরুণদের ‘তিন-শূন্য ব্যক্তি’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে নতুন সভ্যতার দিকে যেতে হবে, যা হবে শূন্য কার্বন নির্গমন, শূন্য বর্জ্য এবং শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণের ভিত্তিতে।
তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক মডেল বিশ্বকে এক আত্মধ্বংসী পথে নিয়ে যাচ্ছে। কার্বন নির্গমন, বর্জ্য উৎপাদন এবং সম্পদ কেন্দ্রীকরণের ফলে সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে এবং এটি বিশ্বকে আরও সংকটে ফেলছে। তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করতে হবে।
ড. ইউনূস মনে করেন, মানুষ অন্য কারও অধীনে কাজ করার জন্য জন্মায়নি, বরং তারা উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য জন্মগ্রহণ করেছে। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টির দিকে মনোযোগী হতে হবে।
বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রজন্ম হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা চাইলে সমাজ ও অর্থনীতির চিত্র বদলে দিতে পারে। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের নতুন যুগের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে হবে।
বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে পৌঁছান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক অসমতা দূরীকরণে উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের উদ্যোগ ও মনোভাবই বিশ্বকে পরিবর্তন করতে পারে।
এছাড়া, পরিবেশবান্ধব ব্যবসা ও সামাজিক দায়বদ্ধ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার, যেখানে লাভের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাও সমানভাবে গুরুত্ব পাবে।
বিশ্ব অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তারা যদি সচেতন হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ পৃথিবী আরও উন্নত ও টেকসই হবে।
Leave a Reply